একটা ম্যানুস্ক্রিপ্ট অত্যন্ত যত্ন সহকারে তৈরি করে কাঙ্ক্ষিত
জার্নালে সাবমিট করার পর, এক চোখ সব সময়ই ইনবক্সে পড়ে থাকে, মনের অজান্তেই ফোন আনলক
করে ইনবক্স চেক করি আমরা। এই বুঝি রিভিউয়ারের কাছ থেকে
এক্সেপ্টেন্স নটিফিকেশন (acceptance notification) আসলো! কিন্তু সেটা না হয়ে হঠাত যখন
দেখি, রিভিশন (revision) নটিফিকেশন ইমেইল আসলো, তখন অনেক অনেক কষ্ট পেতে হয়। কিছুতেই
মন রিভিউয়ারের সিদ্ধান্তটি মানতে চায় না। কারন আমাদের মতে, কাজটি একদম অরিজিনাল ছিল,
জার্নালের সব রিকোয়ার্মেন্টই ফুলফিল করে সঠিক ভাবে তৈরি করেছিলাম। তারপরও কেন রিভিশন!! ইত্যাদি ইত্যাদি
প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে মনের মধ্যে। এমন অবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ রিপ্লাই দেয়া
হয় না। কিন্তু ঐ সময় ঠাণ্ডা মাথায় সুন্দর সুস্পষ্ট রিপ্লাই দেয়া খুবই জরুরি। কারন গবেষণা
পেপারটি প্রায় পাবলিকেশনের পথে। নচেৎ অল্পের জন্য রিজেকশন (rejection) খেতে হয়, যা
আসলেই খুবই দুঃখজনক।
রিভিউয়ারের কমেন্টের রিপ্লাই জানানোর
জন্য এবং দ্রুত একটি
ইতিবাচক সিদ্ধান্তের (positive
decision) জন্য আমাদের কিছু টিপস অনুসরণ করতে হবে।
টিপস গুলো এক এক করে নিচে উল্লেখ করা হল।
১. কমেন্ট আসার সাথে সাথেই রিপ্লাই
কিংবা রিভাইজ করার কাজ না করাই ভালো। বরং কিছু সময় নিয়ে আগে নিজে স্থির হওয়া উচিৎ।
নচেৎ কমেন্ট ভালো ভাবে না বুঝার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।
২. কমেন্ট আসার পর সেগুলো খুব মনোযোগ
সহকারে বার বার পড়তে হবে। সময় নিয়ে বুঝতে হবে রিভিউয়ার আসলে কি চেয়েছে। রিভিশন পাঠানোর
জন্য অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সময় সীমা দিবে। তাই তাড়াহুড়া করার একদমই কিছু নেই। তবে
অবশ্যই বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই রিভিশন পাঠাতে হবে।
৩. রিপ্লাই করার সময় অবশ্যই মনে রাখতে
হবে, যেন রিপ্লাইটি যথেষ্ট নম্র, ভদ্রোচিত ভাষায় হয়। শুরুতেই রিভিউয়ারদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন
করে রিপ্লাই করতে হবে। তার/তাদের সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম রিভিউ এর মাধ্যমে আমাদের পেপারের
দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করণ এবং পেপারটি পাবলিশ হবার আগে আরও
শক্তিশালী করার সুযোগ দেয়ার জন্যও রিভিউয়ারদের ধন্যবাদ জানানো উচিৎ।
৪. রিভিউ কমেন্ট গুলোর একটা লিস্ট করে
নিয়ে তারপর এক এক করে পেপারে রিভাইজ করতে হবে।
৫. রিভাইজ করে পাঠানোর সময় অবশ্যই মার্ক
করে দিতে হবে, কোন কোন জায়গায় কি কি রিভাইজ করা হয়েছে। কারন আমাদের পেপার আবার পুরোটা
পড়ার মত সময় এডিটর কিংবা রিভিউয়ারদের নেই। রিভিশন রিপ্লাই করার সময়, মেইলের বডিতে
(email body) প্রত্যেকটি কমেন্টের নিচে রিভিশন আলাদা আলাদা করে উল্লেখ করে রিভাইজড
ম্যানুস্ক্রিপ্টের (revised manuscript) কোন পেইজের কোন লাইনে রিভাইজ করা হয়েছে সেটাও
উল্লেখ করে দিলে খুব ভালো হয়। তাহলে এডিটর যেমন মেইলের বডিতে সহজেই রিভিশন পাচ্ছে,
ঠিক তেমনি রিভাইজড ম্যানুস্ক্রিপ্টের চ্যাঞ্জ গুলোও বুঝতে পারে।
৬. রিভিশন সাবমিট করার সময় এটাচম্যান্ট
হিসেবে, কভার লেটার (cover letter), রিভাইজড ক্লিন ম্যানুস্ক্রিপ্ট কোন রকম হাইলাইট
বা মার্ক করা ছাড়া এবং রিভিশন গুলো মার্ক করা ম্যানুস্ক্রিপ্ট (সাধারণত MS Word এর
Track change অপশন ব্যবহার করে করা হয়।) দিতে হয়।
উপরের টিপস গুলো অনুসরণ করলে আমাদের
পেপারটি এক্সেপ্টেড হবার চান্স বেশি থাকবে। সবার জন্য অনেক শুভকামনা রইল।
আরো বিস্তারিত জানার জন্য নিচের সোর্স গুলো পড়ে দেখার অনুরোধ রইল।
২. How reviewers really judge manuscripts
৩. Variability of Reviewers' Comments in the Peer Review Process for orthopaedic Research
৪. Letter to our authors, or how to read and interpret your reviewers’ comments
৫. How to respond to reviewers and revise your article for publication
৬. Responding to reviewers
Courtesy:
Md. Syduzzaman
Assistant Professor
Department of Textile Engineering Management, BUTEX

Post a Comment